ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাব করেছে তেহরান। -বাসস
শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন, ‘ইরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে প্রণালীটি খুলে দেওয়া এবং সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।’
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি। এর আগে তিনি যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরেন।
আরাকচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না। চাপের মুখে ইরান তার সার্বভৌম অধিকারও ছাড়বে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে আমি বলতে পারি—এখন সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে।’
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় লেবাননও থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান আরও কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিদেশে আটকে থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ ছাড় করা, ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া; ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বন্ধ করা।
যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা হিসেবে পরিচিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-’র মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মঙ্গলবার এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের অবসানও তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা।
তবে এর কিছুদিন পরই সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালায়। তেহরানের অভিযোগ ছিল, এসব জাহাজ প্রণালীর জন্য অনুমোদিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল।
ইরানের দাবি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব জাহাজ এই নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, সেগুলো নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। অন্যদিকে, এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও মাঝেমধ্যে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।