নতুন সদর দপ্তর ঘিরে আনসার-ভিডিপির আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত

নতুন সদর দপ্তর ঘিরে আনসার-ভিডিপির আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের কল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সদর দপ্তরসহ একগুচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রায় ১১ বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে বাহিনীর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করেন। পরে তিনি খিলগাঁওয়ে বাহিনীর বিদ্যমান সদর দপ্তর পরিদর্শন এবং নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের বিশাল এ বাহিনীকে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, তেজগাঁওয়ে প্রায় ১১ বিঘা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া নতুন সদর দপ্তর বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখানে আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় অপারেশন মনিটরিং, দ্রুত তথ্য বিনিময়, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সদস্যদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আনসার-ভিডিপির ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের ধারাবাহিকতায় আনসার-ভিডিপি দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে আনসার বাহিনী আইন, ব্যাটালিয়ন আনসার আইন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, সমন্বিত ও কার্যকর করতে বিদ্যমান তিনটি আইন সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারীদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে জাপানি ভাষা ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প সদস্যদের দক্ষতা ও আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশনও সদস্যকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম ও জননিরাপত্তায় একটি দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে। আধুনিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে এটি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত যোগাযোগ, অপারেশনাল সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ‘প্রান্তিক সংযোগ’, ‘প্রান্তিক শক্তি’, ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ সদস্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জনমুখী কার্যক্রমের সমন্বয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও গতিশীল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নতুন সদর দপ্তর ও উদ্বোধিত উদ্যোগগুলো এ অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। এতে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সদস্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি প্রত্যাশা করেন, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা, সততা ও জনসেবার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়